পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
কমোডর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষতযাযাদি রিপোর্ট মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির সঙ্গে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি-শিপিং) কমোডর জোবায়ের আহমেদের অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ ওঠায় আমরা তার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। তার সঙ্গে গত ২৭ আগস্ট সোমবার যায়যায়দিনের এই প্রতিবেদকের কথোপকথন এবং আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কমোডর জোবায়ের আহমেদের সর্বাঙ্গে দুর্নীতির দুষ্টক্ষতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নিচে প্রশ্নোত্তর এবং আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো_
১. যাযাদি- যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' ও 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু' শীর্ষক দুটি রিপোর্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
ডিজি- রিপোর্ট দুটি 'কনস্ট্রাকটিভ'। কেউ কোনো দুর্নীতি বা জালিয়াতি করে থাকলে তা প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু রিপোর্টের একাংশে আমার (ডিজি) সঙ্গে মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের বিশেষ সম্পর্ক এবং আমার ইঙ্গিতেই মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে জাল-জালিয়াতিতে সহায়তা করতে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট 'দায়মুক্তির' প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং ইয়েলো জার্নালিজমের নামান্তর। মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট মেঘনাকে দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়ে কোনো অনিয়ম করেনি বলে জোবায়ের আহমেদ জোর দাবি করেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- মেঘনাকে দেয়া মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র বিশ্লেষণে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্রের দ্বিতীয় প্যারার প্রথম লাইনে বলা হয়েছে, 'মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অত্র দপ্তরে কোনো রেজিস্টার্ড মর্টগেজ নেই।' রহস্যজনকভাবে তার পরের লাইনেই বলা হয়েছে, 'জাহাজটি সব ধরনের রেজিস্টার্ড ঋণ থেকে মুক্ত।' অথচ ওই জাহাজটির রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে অগ্রণী ব্যাংকের মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের বিশেষ কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে তাদের দেয়া দায়মুক্তির সার্টিফিকেটে ওই দপ্তরে কোনো রেজিস্টার্ড মর্টগেজ নেই, তা লিখতে পারত। কিন্তু তা না লিখে জাহাজটি সব ধরনের রেজিস্টার্ড দায়মুক্ত_ এ কথা উল্লেখ করে মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলে এ ধরনের সার্টিফিকেট কোনো রেগুলেটরি বডি দিতে পারে না বলে সংশ্লিষ্ট মহল অভিমত প্রকাশ করেছে। অথচ ডিজি শিপিং এটাকেই 'ইয়েলো জার্নালিজম' বলেছেন।
ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের সুস্পষ্ট এই দুর্নীতি-জালিয়াতি এবং এর পক্ষে ডিজি শিপিংয়ের সাফাই গাওয়াতেই প্রমাণ মেলে, তার বিশেষ ইন্ধন ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তর ওই প্রত্যয়নপত্র দেয়নি।
২. যাযাদি- আপনাদের দায়মুক্তির সার্টিফিকেট হাতে পেয়েই মেঘনার পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনারা মেঘনার কাছে লিখিত কোনো ব্যাখ্যা চেয়েছেন কিনা? তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নিয়েছেন কিনা?
ডিজি- মেঘনার প্রতিনিধিকে আমরা ডেকে পাঠিয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে তার চেয়েও আমরা নথিপত্রের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কাগজপত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোনো জালিয়াতি বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- ডিজি শিপিং জোবায়ের আহমেদের এ কথায় স্পষ্ট প্রমাণ হয়েছে, তিনি কালক্ষেপণ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কেননা, মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিমিটেড যে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র পুঁজি করে গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দিয়েছে, তা অনেক আগেই প্রমাণিত হয়েছে। মেঘনা কর্তৃপক্ষও জাহাজ বিক্রির কথা স্বীকার করেছে। অথচ ডিজি শিপিং সেই অভিযোগে মেঘনা কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত না করে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেখানে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স, পিওএমএমডি ও ডিজি শিপিংয়ের গোপন যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কাগজপত্রে দুর্নীতি খোঁজার নামে আসলে 'আইওয়াশ' করার চেষ্টা চলছে।
৩. যাযাদি- মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতির রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর আপনি টেলিফোনে আমাকে জানিয়েছিলেন, এ ঘটনা তদন্তে শিগগিরই কমিটি করা হবে। এখন পর্যন্ত আদৌ কোনো কমিটি করা হয়েছে কি? তদন্তের জন্য কমিটিকে নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে কি? কমিটি হয়ে থাকলে তার সদস্য কে কে? তদন্তের অগ্রগতি কতদূর? তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছেন কিনা?
ডিজি- সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন কেএম জসিমুদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম এবং ডেপুটি শিপিং মাস্টার জসিম পাটোয়ারী। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা গত রোববার মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের নথিপত্র যাচাই করেছেন। মেঘনা প্রাইড জাহাজটি অগ্রণী ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রয়েছে_ এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ তারা সেখানকার রেজিস্ট্রেশন বালামে পাননি। এরপর অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তদন্ত কমিটি তা খুঁজে দেখছে। পিওএমএমডি কোনো অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- অভ্যন্তরীণ তদন্তে কোনো অনিয়ম ধরা পড়বে না_ এটাই স্বাভাবিক। কারণ, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন বালাম লিখেন সেখানকার কর্মকর্তারাই। এই দুর্নীতির সঙ্গে তারা নিজেরা জড়িত থাকলে এবং তা ফাঁস হয়ে গেলে রেজিস্ট্রেশন বালাম 'এদিক-সেদিক' করা তেমন বড় কোনো বিষয় নয়, তা সবারই বোধগম্য।
ডিজি শিপিংয়ের অধীনস্থ তদন্ত কমিটি না রেখে স্বাধীন কোনো কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে দুর্নীতি-জালিয়াতির আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফাইন্ডিংস কী হবে, তা নিয়ে শিপিং সংশ্লিষ্ট অনেকে আগেই সন্দেহ পোষণ করেছিলেন, যা গত ১৪ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু' শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. যাযাদি- ব্যাংক বা অর্থ লগি্নকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বড় অংকের নগদ টাকায় কেউ সমুদ্রগামী জাহাজ কেনে না। বিষয়টি জাহাজ সংশ্লিষ্ট সবারই জানা। মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট এবং আপনারও নিশ্চয়ই তা জানা আছে। তাহলে রেগুলেটরি বডি হিসেবে জাহাজের রেজিস্ট্রেশনের সময় মেঘনার কোনো ব্যাংক বা অর্থ লগি্নকারী প্রতিষ্ঠানে ঋণ আছে কিনা, তা কেন জানতে চাননি? আপনাদের তখন মেঘনা লিখিতভাবে জানিয়েছিল কিনা যে, তাদের কোনো ঋণ নেই?
ডিজি- কোনো পার্টি না জানালে পিওএমএমডি/ডিজি শিপিংয়ের পক্ষে কোনো জাহাজের ঋণ আছে কিনা, তা জানা সম্ভব নয়। এবং তা জানার কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। বরং যে ব্যাংক বা অর্থ লগি্নকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ দিয়ে থাকে, এ দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- ডিজির এই বক্তব্য শিশুসুলভ। কারণ, যে কোনো ঋণ সংক্রান্ত বিষয় রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু সমুদ্রগামী জাহাজ ভ্রাম্যমাণ সম্পত্তি হওয়ায় তা সেখানকার পাশাপাশি মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টেও রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এত বিপুল অংকের নিজস্ব অর্থে যেহেতু সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার কোনো নজির নেই, সেহেতু পিওএমএমডি/ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে অনায়াসেই রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে খোঁজ নিতে পারতেন। অথচ তারা তা করেননি। বরং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনাকে গোপনে জাহাজ বিক্রির পথ সুগম করে দিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে জাহাজটির কোনো প্রকার দায় নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
৫. যাযাদি- মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকায় ঋণ থাকা সত্ত্বেও আপনার ইঙ্গিতেই পিওএমএমডি অবৈধভাবে গোপনে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের যে অভিযোগ রয়েছে, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
ডিজি- মোস্তফা কামাল বা কোনো জাহাজ মালিকের সঙ্গে আমার বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই। অন্য জাহাজ মালিকদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, মোস্তফা কামালের সঙ্গেও একই সম্পর্ক। এ ব্যাপারে কিছু লেখার আগে আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে কেউ আমাকে হেয় করতে চেয়েছে। কিন্তু আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনের যে অর্জন রয়েছে, তাতে হঠাৎ করে কেউ আমার বিরুদ্ধে অহেতুক কোনো অভিযোগ আনলেই তা মস্নান হয়ে যাবে না। যায়যায়দিনে প্রকাশিত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে মোস্তফা কামালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি আমাকে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- ডিজি শিপিং জোবায়ের আহমেদের সঙ্গে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের যে বিশেষ সম্পর্ক আছে, তা তাদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়। মেঘনার অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও জোবায়ের আহমেদকে নিয়মিত যোগ দিতে দেখা যায়।
এছাড়া মোস্তফা কামাল তার বিরুদ্ধে যায়যায়দিনে প্রকাশিত দুর্নীতি-জালিয়াতির দুটি প্রতিবেদনের যে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন, তাতেও ডিজি জোবায়ের আহমেদের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেননি।
এদিকে, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ আছে, যা দৈনিক প্রথম আলোতে গত ১৭ এপ্রিল ২০১১ তারিখ 'পুরান জাহাজ আমদানিতে চাঁদাবাজি', একই বছরের ২২ জুন 'পুরান জাহাজ আমদানিতে নয়া রেকর্ড', চলতি বছরের ৫ জুলাই দৈনিক কালের কণ্ঠের 'সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের আইডি কার্ড বাণিজ্য' এবং একই পত্রিকায় গত ২৮ মার্চ 'অবৈধ সনদের স্বীকৃতি দিচ্ছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর' শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
৬. যাযাদি- মেঘনা প্রাইড জাহাজটির দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে অভিযুক্ত করে যে চিঠি দিয়েছে, দীর্ঘদিন পরও এর কোনো জবাব দেয়া হয়নি কেন? এর রহস্য কী বলে আপনি মনে করেন?
ডিজি- দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংক পিওএমএমডিকে অভিযুক্ত করে কোনো চিঠি দিয়েছে বলে আমার জানা নেই। যদি তারা যথাসময়ে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টকে তাদের ঋণের ব্যাপারে না জানিয়ে জাহাজ বিক্রির পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেয়, তবে তা অগ্রহণযোগ্য। আমার ধারণা, অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে এ ধরনের কোনো চিঠি পিওএমএমডিকে দিয়ে থাকতে পারে। যায়যায়দিন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই চিঠির কোনো কপি থাকলে তা আমাকে সরবরাহ করবেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- তার অধীনস্থ মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে অভিযুক্ত করে অগ্রণী ব্যাংক যে চিঠি দিয়েছে, তা গত ১২ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শীর্ষক প্রতিবেদনে স্মারক নাম্বারসহ (পিবি/এফইএক্স/ইএক্সপি/এএডি/০১৩৮/২০১২) উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৩ ও ২৩ আগস্ট পিওএমএমডি ওই সংবাদের কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে দুই দফা প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। কিন্তু ওই প্রতিবাদপত্রে পিওএমএমডি অগ্রণী ব্যাংকের চিঠি প্রাপ্তির কথা অস্বীকার করেননি। অথচ কমোডর জোবায়ের আহমেদ দাবি করেছেন, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে তিনি বিষয়টি গোপন করতে চাইছেন।
৭. যাযাদি- মার্চেন্ট শিপ অর্ডিন্যান্স-১৯৮৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পতাকাবাহী কোনো জাহাজ বিক্রি, মালিকানা হস্তান্তর বা আকৃতি পরিবর্তন করতে হলে ডিজি শিপিংয়ের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। মেঘনা কর্তৃপক্ষ ওই অনুমোদন আপনার দপ্তর থেকে নিয়েছে কিনা? না নিয়ে থাকলে মেঘনার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
ডিজি- এ প্রশ্ন শোনামাত্রই কমোডর জোবায়ের আহমেদের সিরিয়াস মুখম-ল হঠাৎ করে ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথন শেষ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। দাপ্তরিক কাজকর্মের ব্যস্ততা দেখিয়ে প্রতিবেদককে বিদায় দেয়ার চেষ্টা করেন।
উত্তরের জন্য প্রতিবেদকের বার বার অনুরোধের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, 'মেঘনা কর্তৃপক্ষ জাহাজ বিক্রির আগে আমাদের কোনো অনুমতি নেয়নি।' এ সময় তিনি কিছুটা উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, এই অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারাই জড়িত।
প্রতিবেদকের বক্তব্য- সরকারের অনুমোদন ছাড়া জাহাজ বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ জেনেও ডিজি শিপিং এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছেন। অথচ মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ নিজেরাই অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণের টাকায় জাহাজ ক্রয় এবং পরে তা বিক্রি করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। জাহাজ বিক্রির অনুমোদন না নেয়ার কথা ডিজি নিজেও স্বীকার করেছেন। কিন্তু এই অপরাধের জন্য মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো কথা তিনি বলেননি। তার এই রহস্যজনক ভূমিকায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, মেঘনার মোস্তফা কামালের সঙ্গে গোপনে জাহাজ বিক্রির জালিয়াতির সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত।
 
পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
মেঘনার পেনডোরা বঙ্ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নসরকার কৌশলগত কারণে গণজাগরণ মঞ্চকে সমর্থন দিয়েছে_ ইমরান এইচ সরকারের এই বক্তব্যে আপনার সমর্থন আছে কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin