পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রতিবাদ ও আমাদের বক্তব্যগত ১২ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শীর্ষক প্রতিবেদনের একটি অংশের প্রতিবাদ করেছেন মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার। তার পাঠানো প্রতিবাদপত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো_
'এমভি মেঘনা প্রাইড অফিসিয়াল নং-২৩৫ বিগত বছরের ০৪-০৯-২০১১ তারিখে বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে অত্র অধিদপ্তরে নিবন্ধন করা হয়। রেকর্ডদৃষ্টে দেখা যায়, নৌযানটির মালিক মেসার্স মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিঃ, হাউস নং-১৫, রোড নং-৩৪, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২। অত্র অধিদপ্তর মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশনের (মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ-১৯৮৩-এর ৪০ ধারা) দায়িত্ব পালন করে থাকেন। উক্ত নৌযানটি অত্র অধিদপ্তরে নিবন্ধনের সময় মালিকপক্ষ অথবা ব্যাংক থেকে মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশনের কোনো আবেদন আসে নাই।
অত্র অধিদপ্তরে নিবন্ধনকৃত প্রায় সকল জাহাজের মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশনকালীন কোনো ব্যাংক/অর্থলগি্নকারী প্রতিষ্ঠান কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ঋণ দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মর্টগেজের জন্য স্যাংশন লেটারসহ একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি অত্র অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন।
অধিদপ্তরের রেকর্ডদৃষ্টে উক্ত নৌযানটির মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন না থাকায় অত্র অধিদপ্তরে মর্টগেজ নেই মর্মে মালিকের আবেদনের (সংযুক্ত) প্রেক্ষিতে পত্র দেয়া হয়েছে। কোনো জাহাজ মালিক নিবন্ধনের পূর্বে বা পরে মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে কোনো ব্যাংক/অর্থলগি্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে অর্থ ঋণ নিলে এবং তা অত্র অধিদপ্তরকে অবহিত না করলে অত্র অধিদপ্তরের জানার কোনো উপায় থাকে না।
আপনার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন হয়নি মর্মে দেখা যায়। এমনকি প্রতিবেদকের সঙ্গে প্রিন্সিপাল অফিসারের কোনো আলাপও হয়নি।
এমতাবস্থায় বিষয়োক্ত প্রতিবাদ প্রতিবেদনটি আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রকাশ করে চির বাধিত করবেন।'
প্রতিবেদকের বক্তব্য
গত ১২ আগস্ট যায়যায়দিনে প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে_
১. মেঘনা প্রাইড জাহাজটির অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ঋণ থাকা সত্ত্বেও মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অবৈধভাবে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে 'জাহাজটির কোনো দায়বদ্ধতা নেই' মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে।
২. এই প্রত্যয়নপত্রকে পুঁজি করে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স মেঘনা প্রাইড জাহাজটি ঋণদাতা অগ্রণী ব্যাংককে না জানিয়ে গোপনে ঘধাধষসধৎ (টক) খঃফ-এর কাছে বিক্রি করে।
যায়যায়দিনের ১ নাম্বার পয়েন্টে উত্থাপিত বক্তব্য যে সত্য, তা গত ৭ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারকে পাঠানো অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের উপ-মহাব্যবস্থাপক জহর লাল রায়ের চিঠিতে (পিবি/এফইএঙ্/ইএঙ্পি/এএডি/০১৩৮/২০১২) স্পষ্টত প্রমাণিত হয়েছে। ওই চিঠিতে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, 'এমভি মেঘনা প্রাইড' জাহাজটি মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড লিঃ অগ্রণী ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না_ এই শর্ত জানা সত্ত্বেও মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট কেন এই জাহাজের কোনো দায়বদ্ধতা নেই মর্মে সার্টিফিকেট দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট অগ্রণী ব্যাংকের ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের উপ-মহাব্যবস্থাপক জহর লাল রায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন না থাকলে অগ্রণী ব্যাংক তাদের ওই চিঠি দিল কিভাবে এবং দীর্ঘ ১৬ দিন পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ওই চিঠির কোনো জবাব কেন দেয়া হলো না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
যায়যায়দিনের ২ নাম্বার পয়েন্টে উলি্লখিত বক্তব্য যে সন্দেহাতীতভাবে সত্য, তা জাহাজ সংশ্লিষ্ট সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন। কেননা, জাহাজের দায়বদ্ধতা নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র না থাকলে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের পক্ষে অগ্রণী ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে জাহাজ বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানও একই দাবি করে বলেছেন, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট/ডিজি শিপিংয়ের ওই প্রত্যয়নপত্র না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে কেউ মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের ওই জাহাজ কিনত না। কিন্তু মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট গোপনে অবৈধভাবে ওই সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়ায় তা পুঁজি করে তারা অনায়াসেই জাহাজটি বিক্রি করতে পেরেছে।
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার তার প্রতিবাদপত্রে দাবি করেছেন, মেঘনা প্রাইড জাহাজটি অত্র অধিদপ্তরে নিবন্ধনের সময় মালিকপক্ষ অথবা ব্যাংক থেকে মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশনের কোনো আবেদন আসেনি। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংকের ক্রেডিট ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, যথাসময়েই মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে মর্টগেজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান।
আমাদের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান অনুযায়ী, ব্যাংক বা অর্থলগি্নকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো এত বড় অঙ্কের অর্থে কেউ সমুদ্রগামী জাহাজ কেনে না। বিষয়টি জাহাজ সংশ্লিষ্ট সবারই জানা। মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের এ ব্যাপারে অজ্ঞ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং মেঘনা প্রাইড জাহাজটির মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন না থাকায় মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট/ডিজি শিপিং রেগুলেটরি বডি হিসেবে কোনো খোঁজ-খবর না নিয়েই মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে বলে যে দাবি করেছে, তা সর্বমহলেই অগ্রহণযোগ্য।
প্রতিবেদকের সঙ্গে মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসারের কোনো আলাপ হয়নি বলে প্রতিবাদপত্রে যে দাবি করা হয়েছে, তা আদৌ সত্য নয়। গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শীর্ষক প্রতিবেদন তৈরির আগে যায়যায়দিনের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল।
মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রতিবাদপত্রটি ১৩ আগস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হলেও তা গত বৃহস্পতিবার যায়যায়দিন কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে।
দৈনিক যায়যায়দিনে মেঘনার জালিয়াতি সম্পর্কিত যে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা তথ্যভিত্তিক এবং পুরোপুরি সঠিক। এ ব্যাপারে যায়যায়দিন তার অবস্থানে অনড়।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/220/news_hit.xml:140: parser error : Extra content at the end of the document in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: it_29610>3</news_hit_29610> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15