মেঘনার মানি লন্ডারিং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরুসাখাওয়াত হোসেন ডিজি শিপিং ও পিওএমএমডির ছাড়পত্রে কেল্লা ফতেদেশের খ্যাতনামা শিল্পোদ্যোক্তা মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ডের জাহাজ আমদানির জন্য অগ্রণী ব্যাংকে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে ইতোমধ্যেই যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষও তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে ব্যাংকের কারা জড়িত, তা খুঁজে দেখতে শুরু করেছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সেলসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও এই জালিয়াত চক্রের হোতাদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে।
এদিকে, গত রোববার দৈনিক যায়যায়দিনে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মেঘনা গ্রুপের কর্মকর্তারা তটস্থ হয়ে উঠেছেন। ওইদিন সকাল থেকে চট্টগ্রামস্থ মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টে মেঘনার কর্মকর্তাদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির মূল সহায়তাকারী হিসেবে মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টকে দায়ী করেছে। তাদের ভাষ্য, অগ্রণী ব্যাংকের ঋণে মেঘনা প্রাইড জাহাজটির ব্যাপারে ম্যারিন মাকান্টাইল যে 'দায়মুক্তির' প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে, সেটাকে পুঁজি করে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অনায়াসেই লন্ডনস্থ নেভালমার (ইউকে) লিমিটেডের কাছে এক বছরের মাথায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পেরেছে। ওই প্রত্যয়নপত্র না দেয়া হলে মেঘনা বিল্ডার্সের পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব হতো না বলে অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের কারা জড়িত, তা জানতে সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলে তিনি সেই সুযোগ দেননি। তাকে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, তিনি মেঘনার ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জরুরি তদন্তের : পৃষ্ঠা ২ কলাম ২


(প্রথম পৃষ্ঠার পর)
বোর্ড মিটিংয়ে বসেছেন। বিকাল ৩টার দিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হামিদ অন্যান্য কর্মকর্তাকে নিয়ে বোর্ড মিটিং থেকে বের হলেও তিনি এই প্রতিবেদককে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেননি।
তাকে না পেয়ে এ বিষয়টি জানতে ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যায়যায়দিনকে জানান, তাদের ব্যাংকে এলসির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মেসার্স সিলভিয়া শিপ ট্রেডস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা জাহাজটি ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট মেঘনা শিপ বিল্ডার্স গ্রহণ করে এবং তা জামানত হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকী দলিল করে দেয়। লিয়েনকৃত জাহাজটি ভ্রাম্যমাণ সম্পত্তি হওয়ায় তা যেন ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে কেউ গোপনে বিক্রি করে দিতে না পারে, সেজন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টে রেজিস্টার্ড মর্গেজ করা হয়। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে মর্গেজ করা হয়েছে। অথচ ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্ট অসৎ উদ্দেশ্যে জাহাজটির কোনো মর্গেজ নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করে।
মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টের এই ভূমিকা রীতিমতো রহস্যজনক বলে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্ট যেহেতু ডিজি শিপিংয়ের নিয়ন্ত্রণে, সেহেতু তার গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে জাল-জালিয়াতিতে সহায়তা করতে 'দায়মুক্তি' প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়নি। মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে জুবায়ের আহমেদের বিশেষ সম্পর্কের সুবাদেই এ অপকর্মটি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সবকিছু জেনেশুনে মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্ট কিভাবে মেঘনা বিল্ডার্সকে দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিল, তা জানতে অগ্রণী ব্যাংক থেকে গত ৭ আগস্ট চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু সোমবার বিকাল পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে গত রোববার দৈনিক যায়যায়দিনে 'মেঘনার ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জালিয়াতি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে সাড়া পড়ে যাওয়ার পর ডিজি শিপিং নড়েচড়ে বসেছেন।
তবে ডিজি শিপিং কমডোর জুবায়ের আহমেদ এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত বলে পাল্টা অভিযোগ করে সোমবার তিনি যায়যায়দিনকে জানান, ব্যাংকের কোনো চক্র এই মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে ঋণের টাকায় কেনা মেঘনা প্রাইড জাহাজটি জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে বিক্রি করার সুযোগ করে দিয়েছে।
মেঘনা প্রাইড জাহাজটি অগ্রণী ব্যাংকে মর্গেজ থাকা সত্ত্বেও মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্ট কিভাবে দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিল_ প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের জবাবে ডিজি শিপিং কমডোর জুবায়ের আহমেদ বলেন, অগ্রণী ব্যাংক হয়তো মেঘনা বিল্ডার্সকে জালিয়াতিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই যথাসময়ে বিষয়টি মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেনি। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। তা না হলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার কথা নয়।
অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাসময়েই মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের ঋণচুক্তি এবং জাহাজটির মর্গেজ রাখার বিষয়টি মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টে রেজিস্টার্ড করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সুদৃঢ় দাবির কথা তুলে ধরা হলে ডিজি শিপিং বিষয়টি এড়িয়ে যান।
মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্ট কোনো জালিয়াতি করেছে, না করেনি, এ ব্যাপারে ডিজি শিপিংয়ের সুস্পষ্ট বক্তব্য চেয়ে প্রতিবেদকের চাপাচাপির এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বিষয়টি বিশেষভাবে তদন্ত করতে শিগগিরই ইন্টারনাল কমিটি গঠন করা হবে।
লিয়েনকৃত জাহাজ গোপনে বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর তা মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টে রেজিস্টার্ড হয়েছে কি, হয়নি, তা যাচাই করতে ডিজি শিপিং জুবায়ের আহমেদের কমিটি করার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুনভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনি বিশেষ কিছু গোপন করতে চাইছেন কিনা, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেছেন।
শিপিং সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য, অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবেন ডিজি শিপিংয়ের নিজস্ব কর্মকর্তারা। সুতরাং এর ফাইন্ডিং কী হবে, তা সবারই জানা।
পৃথিবীর কোথাও নিজস্ব অর্থায়নে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে কেউ জাহাজ কেনে কিনা, আর এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর না নিয়ে দায়মুক্তির প্রত্যয়নপত্র দেয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক কিনা, তা জানতে চাইলে জুবায়ের আহমেদ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শিপিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিশাল অকের নিজস্ব টাকা দিয়ে কেউ জাহাজ কেনে কিনা, তা ডিজি শিপিং এবং মাকান্টাইল ম্যারিন ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানার কথা। সুতরাং মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের ব্যাংক লিয়েন করার বিষয়টি জানা ছিল না বলে তারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কতটা যৌক্তিক, এ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের এই ভয়ঙ্কর জালিয়াতি প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথনের এক পর্যায়ে জুবায়ের আহমেদ স্বীকার করেন, জাহাজ ক্রয়-বিক্রয়ের অতীতের বেশকিছু কঠিন শর্ত তিনি নিজ উদ্যোগে তুলে দিয়েছেন।
তার এই উদ্যোগ বিশেষ কোনো স্বার্থে কিংবা মেঘনা শিপ বিল্ডার্সসহ আরো কোনো জালিয়াত চক্রকে জালিয়াতিতে সহায়তা করার কোনো ফন্দি কিনা, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
অগ্রণী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনার আত্মসাৎকৃত টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তোড়জোড় শুরু করেছে। সোমবার মেঘনা শিপ বিল্ডার্সকে তারা আরেকটি চিঠি দিয়েছে। এর আগে গত ৭ আগস্ট মেঘনা শিপ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেয়া হলেও এবার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফার নামে দ্বিতীয় দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে মেঘনার জাল-জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও গোপনে জাহাজ বিক্রি করে দেয়ার কোনো কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ঋণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ারও কোনো তাগাদা দেয়া হয়নি।
ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ব্যাংকের ঋণে কেনা জাহাজটি গত বছরের ২৯ আগস্ট থেকে কোথায় কী অবস্থায় আছে এবং ওই জাহাজের ভাড়া বাবদ উপার্জিত অর্থ কোথায় জমা করা হচ্ছে, তা জরুরি ভিত্তিতে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমভি মেঘনা প্রাইড জাহাজের মাধ্যমে বহনকৃত ১৩ হাজার ৩৫০ টন ব্রাজিলিয়ান র ক্যান সুগারের জাহাজ ভাড়া ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার কেন সিঙ্গাপুরের আইজিনা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে (অরমরহধ ওহাবংঃসবহঃ খরসরঃবফ) প্রদান করা হয়েছে, সেই রহস্য জানতে চাওয়া হয়।
চিঠিতে কেন মেঘনার জালিয়াতি বা আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার কথা বলা হয়নি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, একই ভাষায় গত ৭ আগস্ট ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জওহর লাল রায় মেঘনা শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেন। কিন্তু তারা ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি মেঘনা কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি।
অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরে একাধিকবার মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফাকে টেলিফোন করেছেন। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি।
মিজানুর রহমান আরো জানান, মেঘনা শিপ বিল্ডার্স দ্রুত ঋণের টাকা ফিরিয়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মেঘনা শিপ বিল্ডার্স এলসির (ঋণপত্র) মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে এলসি খুলে সিঙ্গাপুর থেকে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ ১৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকায় সমুদ্রগামী একটি জাহাজ আমদানি করে (যা তৎকালীন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ছিল মাত্র ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং ঋণপত্রের চুক্তি অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বন্ধকী দলিল করে দেয়। জাহাজটি বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুনির্দিষ্ট শর্ত থাকলেও মেঘনা শিপ বিল্ডার্স তা না মেনে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করে সম্প্রতি ক্রয়মূল্যের অর্ধেক দামে গোপনে জাহাজটি বিক্রি করে দিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করে জাহাজ বিক্রির পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে মেঘনা শিপ বিল্ডার্স গত জুন মাসে ওই টাকা ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। মেঘনা শিপ বিল্ডার্স ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের সাপোর্টে ওই জাহাজ ক্রয়ে তাদের কোনো ঋণ ছিল না, তা ইস্টার্ন ব্যাংককে জানায়।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মেঘনা শিপ বিল্ডার্সের ব্যাংক ঋণের টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তদল জানতে পারে, এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের টাকাই মেরে দেয়নি, বরং সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত জাহাজের মূল্য দ্বিগুণের বেশি দেখিয়ে ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের এলসির মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ বিদেশে পাচারকারী এবং তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ় রাখতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা জরুরি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নরাষ্ট্র ও সমাজচিন্তক কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, রিজওয়ানার স্বামীকে অপহরণের ঘটনায় 'র' জড়িত থাকতে পারে_ আপনিও কি তাই মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin