পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়েরের 'সার্কাস'যাযাদি রিপোর্ট কমডোর জোবায়ের আহমেদসমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি শিপিং) কমডোর জোবায়ের আহমেদ নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তদন্তের নামে 'সার্কাস' শুরু করেছেন। এ ঘটনায় সমুদ্র পরিবহনে একদিকে আতঙ্ক এবং অন্যদিকে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক যায়যায়দিনে 'কমডোর জোবায়েরের অপকর্মের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এতে বলা হয়, দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত জোবায়ের আহমেদ গোটা প্রতিষ্ঠানটি লুটেপুটে খেতে এবার তার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দুর্নীতিতে উৎসাহিত করছেন। এর প্রমাণ, অফিসিয়াল মিটিংয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নিষ্ঠাবান সৎ কর্মকর্তাদের তার দরকার নেই, তার কাছে দুর্নীতিবাজরাই ভালো।
ওই মিটিংয়েই কমডোর জোবায়ের আহমেদ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের একজন নীতিবান এবং ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ভাষায় বলেন, 'বাইনচোত, হুজুর তোর পাছা দিয়ে ঢুকাই দিমু ব্যাটা।' এর পরক্ষণেই আবার তিনি গর্জে উঠে বলেন, 'তোর হুজুর-টুজুরগিরি পাছা দিয়ে ঢুকাই দিমু।' (কমডোর জোবায়ের আহমেদের মুখে উচ্চারিত অশ্লীল ও অসংযত এই শব্দচয়ন মুদ্রণের অযোগ্য হলেও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বোঝানোর জন্য তা ছাপাতে বাধ্য হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত)। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৩ অক্টোবর তিনি তারই অধীন চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার এ কে এম ফখরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একটি করে চিঠি (নং পিও-কর্মকর্তা অভিযোগ/৯৪/অংশ-৩/তারিখ ০৩/১০/১২) ধরিয়ে দেয়। চিঠিতে 'যায়যায়দিনে অধিদপ্তরসংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে তদন্ত প্রসঙ্গে' উল্লেখ করে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নগুলো হুবহু তুলে দেয়া হলো-
১. বর্তমান মহাপরিচালক কি কখনো আপনাকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন করেছেন? ২. বর্তমান মহাপরিচালক কি কখনো আপনার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন? ৩. বর্তমান কেউ কি আপনাকে বেআইনি কাজ বা দুর্নীতি করতে বাধ্য করছে? ৪. পহেলা এপ্রিল ২০১১- অদ্যাবধি বর্তমান মহাপরিচালকের দাপ্তরিক কার্যপরিচালনায় আপনার মধ্যে কোনো হতাশা ও অসন্তোষ রয়েছে কি? ৫. মহাপরিচালক/পিএ/পিএস/অন্য কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী হুমকি-ধমকি দিয়ে বা কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করে গত ২৯/০৮/২০১২ ইং তারিখে যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছেন কিনা বা এ বিষয়ে প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করতে আপনার কোনো আপত্তি ছিল কিনা?
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না লিখে তা ৪ অক্টোবর দুপুর ২টার মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার এ কে এম ফখরুল ইসলামের কাছে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওই প্রশ্নোত্তরের নিচে নিজের নাম ও পদবি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর ওই চিঠি হাতে পাওয়ার পরই সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকতা-কর্মচারী তা ফ্যাক্স ও ডাকযোগে যায়যায়দিন অফিসে পেঁৗছে দিয়েছেন। তারা তদন্তের নামে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়েরের এ অপকৌশলকে 'সার্কাস' বলে অভিহিত করে বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে তা পত্রিকায় প্রকাশের অনুরোধ জানান।
সরকারি কর্মচারী চাকরিবিধি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তার অধীন কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা যাবে না- এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও কমডোর জোবায়ের কিভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করতে তারই অধীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিলেন তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বলা হয়েছে, আসলে তদন্তের নামে কমডোর জোবায়ের আইওয়াশ করতে চেয়েছেন। এছাড়া গলার ওপর ছুরি ধরে কখনো সত্য উদ্ঘাটন করা যায় না।
এছাড়া ইউনিফর্মধারী কমডোর জোবায়ের আহমেদ যেখানে তার অধীন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে তটস্থ করে রেখেছেন, সেখানে নাম পদবি উল্লেখ করে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পক্ষে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া সম্ভব কিনা তা নিয়ে খোদ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরেরই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী যায়যায়দিনের এ প্রতিবেদককে বলেন, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে ডিজি শিপিং কমডোর জোবায়ের আহমেদ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তা দেখেও না দেখার ভান করছেন। এ সুযোগে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
ওই কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশ্ন- কমডোর জোবায়ের আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কেন তা খতিয়ে দেখছে না সেটা একটি কোটি টাকার প্রশ্ন? তারা কি ইউনিফর্মকে ভয় পাচ্ছে, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে? সরকারি কর্মচারী চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে কমডোর জোবায়ের নিজের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য নিজেই একটি কমিটি গঠন করলেও এ ব্যাপারে কেন তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়নি? ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কমডোর জোবায়ের সমুদ্র পরিবহন অধিপ্তরের কর্মকর্তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন তার রেকর্ড যায়যায়দিন কর্তৃপক্ষের কাছে রক্ষিত আছে বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও -সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এতদিনেও কেন তা যাচাই করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হওয়ায় সিভিল প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না।
 

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: data_files/266/news_hit.xml:153: parser error : Extra content at the end of the document in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: it_36478>3</news_hit_36478> in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Warning: simplexml_load_file() [function.simplexml-load-file]: ^ in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 4

Fatal error: Call to undefined method stdClass::asXML() in /home/jjdin/public_html/news_hit_update.php on line 15