মঙ্গলবার, মে, ২১, ২০১৩: জ্যৈষ্ঠ ৭, ১৪২০ বঙ্গাব্দ: ১০ রজব , ১৪৩৪ হিজরি, ০৭ বছর, সংখ্যা ৩৩৮ |
| গুগল ওয়েব অনুসন্ধান | অনুসন্ধান |
|
|
ওদের চোখে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নশত বাধা পেরিয়েস্বদেশ ডেস্ক ![]() নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এরা। খেয়ে, না খেয়ে স্কুলে গেছে। কখনো কখনো নিজেও কাজ করে পড়ার খরচ জুগিয়েছে। কেননা, তাদের কারো বাবা দিনমজুর, ভ্যানচালক, আখের রস বিক্রেতা কিংবা বর্গাচাষি। সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা। তবু হাল না ছেড়ে অদম্য ইচ্ছা আর সাহসকে পুঁজি করে তারা সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে। দারিদ্র্যের কাছে মাথা নোয়ায়নি এরা। এখন বিত্তবানদের একটুখানি সহায়তাই এদের পাথেয়। তাদের সহায়তা একদিন এদের অনেক দূর নিয়ে যাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এরকম কয়েকজনকে নিয়ে খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা :নূরে জান্নাত : নাটোরের নূরে জান্নাত মৌসুমিকে হাজারো অভাব আর প্রতিবন্ধকতা টলাতে পারেনি। কেননা, সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- নিজেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তাই মৌসুমি একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গেছে, কাঙ্ক্ষিত ফলও পেয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় সে নাটোর গ্রিন একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা-মা আর তিন বোনকে নিয়ে নাটোর শহরের কান্দিভিটুয়া মহল্লায় ভাড়া করা একটি কুঁড়েঘড়ে তাদের সংসার। বাবা কালু গাজী দিনমজুর, মা মর্জিনা বেগম অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ওই দুইজনের সামান্য আয়ে ৬ জনের সংসার চালানোই কঠিন, মৌসুমির লেখাপড়ার খরচ চলবে কী করে। তাই মৌসুমি নিজেও গৃহপরিচারিকার কাজ করে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর এলাকার হাতেগোনা কয়েকজনের সাহায্যে সে এই পর্যন্ত এসেছে। মৌসুমি ভবিষ্যতে একজন কলেজশিক্ষক হতে চায়। কিন্তু কিভাবে পড়ার খরচ চালাবে, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না সে। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর সে এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছে। বাপ্পী লাহিড়ী নাটোর ওমর ফারুক : অভাবের সংসারে ঠিকমতো ভাত ও কাপড় জুটত না। প্রতিবেশীর দেয়া কাপড়-চোপড়ের ওপরই অধিকাংশ সময় তাকে নির্ভর করতে হয়েছে। অভাব অনটনের সংসারে ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে ঘুরে আখের রস বিক্রি করে ওমর ফারুক। এরপরও এ বছর এসএসসিতে সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার চামরুল আজিম উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সে এ ফল অর্জন করে। ওমর ফারুক বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পাঁচোষা গ্রামের নুরুল ইসলাম ও কমেলা বিবির দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার বড়। জমিজমা বলতে তার বাবার শুধুমাত্র ৫ শতক বসতভিটা রয়েছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে এবং এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ওমর ফারুক জানায়, দরিদ্র বাবা লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিনা বেতনে তাকে পড়ার সুযোগ করে দেয়ায় এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতির সার্বিক সহযোগিতায় তার এ পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। অরবিন্দ কুমার দাস দুপচাঁচিয়া পলি আক্তার : নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে পলি আক্তার মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে উপজেলার চকলেঙ্গুড়া গ্রামের ভূমিহীন আ. কদ্দুছ ও আনোয়ারা আক্তারের মেয়ে। বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। তাই কোনোদিন খেয়ে আবার কোনোদিন না খেয়ে তাকে স্কুল করতে হয়েছে। তবুও কোনোদিন স্কুল ফাঁকি দেয়নি। ঝড়বৃষ্টিও তার স্কুলে যাওয়া থামাতে পারেনি। ছাতা না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজেই সে স্কুলে যেতো। পলির ভাই পলাশ মিয়া সুসং আদর্শ বিদ্যানিকেতনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। দিনমজুর বাবাকে কাজ না পেয়ে অনেক দিনই বেকার থাকতে হয়। তবুও থেমে থাকেনি পলি। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গুলশানআরা বেগমসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। এজন্য সে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে সে বিচারক হতে চায়। নির্মলেন্দু সরকার বাবুল দুর্গাপুর এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন |
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সর্বাধিক মতামত
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নবিরোধী দলের সঙ্গে বসতে চান স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। তার এই উদ্যোগ সফল হবে বলে কি মনে করেন?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল |