মতামত :
¦
¦
খুলনা বিভাগে গত ১৬ বছরে ৩৬ ইউপি চেয়ারম্যান খুনখুলনা অফিস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা একের পর এক সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হচ্ছেন। ১৬ বছরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৩৬ ইউপি চেয়ারম্যান নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাট আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান হত্যাকা-ের এক মাসের মধ্যে ঝিনাইদহে রুহুল বিশ্বাস নামে আরো এক ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ বছরে ৩৬ চেয়ারম্যান সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন।
এ অবস্থায় এ অঞ্চলের চেয়ারম্যানরা চরম আতঙ্কে ভুগছেন। মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়ে চেয়ারম্যানদের হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো চেয়ারম্যান নিজের জীবন বাঁচাতে চলাফেরা করছেন পুলিশ প্রহরায়।
জানা গেছে, গত ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৬ বছরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ৩৬ চেয়ারম্যানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ হত্যার শিকার হন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল বিশ্বাস। রোববার সন্ধ্যায় (১৬ জুন) সন্ত্রাসীরা ইউপি চেয়ারম্যানের বাসার সামনেই তাকে বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করে।
এ অবস্থায় কোনো কোনো চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো চেয়ারম্যান দিনে নির্বাচিত এলাকায় থাকলেও রাত কাটান শহরে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধিরা খুন আতঙ্কে থাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকা- অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
একের পর এক চেয়ারম্যান হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের পক্ষ থেকে শিগগিরই বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা সভায় জোরালোভাবে সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরোধিতা করায় তারা সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।
কোনো কোনো চেয়ারম্যানের চরমপন্থী কানেকশন, নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ, এলাকায় একক প্রভাব বিস্তারসহ নানা বিষয় এসব হত্যাকা-ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৬ বছরে নিহত ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে রয়েছেন- বাগেরহাট জেলার সাদেকুল ইসলাম সাদু খাঁ, খান জাহিদ হাসান, আক্তার হোসেন তরফদার, পার্থ প্রতীম প্রন্টু, আতর আলী, হাবিবুর রহমান, খুলনা জেলার গোলাম ফারুক, আবুল কাসেম, মোস্তফা হাবিবুর রহমান, কবিরুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, জাহান আলী, আবু সাঈদ বাদল, গাজী আব্দুল হালিম, আবুল হোসেন, যশোর জেলার আবদার ফারুক, আব্দুল জলিল, প্রকাশ চন্দ্র সাহা, শওকত হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মেহেরপুর জেলায় আব্দুর রফিক, বাগবুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইবনে সাইদ কচি, নূর আলী, মিজানুর রহমান, গহর আলী, ঝিনাইদহ জেলায় আজিজুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, সরাফত হোসেন, কুষ্টিয়া জেলায় নূরুল ইসলাম, খায়বার আলী, আলী আকবর, মাহমুদ হোসেন সাচ্চু, জামিল হোসেন, সাতক্ষীরা জেলায় আরিফুজ্জামান ও সর্বশেষ খুন হন ঝিনাইদহ জেলার রুহুল বিশ্বাস।
ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বাগেরহাটের ষাটগমু্বজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, 'দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সন্ত্রাসীরা একের পর এক ইউপি চেয়ারম্যানদের খুন করছে। গত ১৬ বছরে সন্ত্রাসীরা এ অঞ্চলে তাদের ৩৬ চেয়ারম্যানকে গুলি করে, বোমা মেরে ও কুপিয়ে হত্যা করে। বর্তমানে এ অঞ্চলের ইউপি চেয়ারম্যানরা খুন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। চেয়ারম্যানদের জীবন রক্ষার্থে শিগগিরই তারা কেন্দ্রীয়ভাবে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।'
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানরা কেন খুন আতঙ্কে ওই নেতার কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাই হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান, তারা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সন্ত্রাস, মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকেন। এ জন্যই মূলত এলাকায় চেয়ারম্যানদের প্রতিপক্ষ তৈরি হয়। এজন্যই একের পর এক প্রতিপক্ষ ও সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন চেয়ারম্যানরা।'
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাস বলেন, 'প্রায় প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীরা আমাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সমপ্রতি কয়েক জন আমার কাছে দুই থেকে দশ লাখ টাকা করে চাঁদা চেয়েছে। চাঁদার টাকা না দিলে ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসানের মতো আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হবে বলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিটি এন্টি করেছি। আমার নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক ও পিস্তল থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রহরায় আমাকে চলাফেরা করতে হচ্ছে।'
এ বিষয়ে জানাতে চাইলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, 'মাঠপর্যায় থেকেই জনগণের ভোটে ইউপি চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যানদের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকা-ের কারণে তাদের প্রতিপক্ষ শত্রুতে পরিণত হয়। ওই প্রতিপক্ষরাই অনেক সময় ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে চেয়ারম্যানদের হত্যা করে থাকে। এছাড়া সমপ্রতি এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীরা একটু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের দমন করতে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছে।'
চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তা দিতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তায় সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানরা চাইলে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে।'
 
( লেখাটি পড়া হয়েছে ১৫ বার )
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্ননির্বাচন হবে না বলাটাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা_ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কী একমত?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2010 The Jaijaidin